সিন্ডিকেটের হুমকি উপেক্ষা করে খুলে দেওয়া হলো বসুন্ধরা সিটি

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on print

অবৈধ মোবাইল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ডাকা ধর্মঘট ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে নেমেছেন বৈধ ব্যবসায়ীরা। আজ বুধবার সকাল থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ শপিং মল বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে সমবেত হয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা একে একে তাদের দোকান খুলে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে গত কয়েকদিনের অস্থিরতা কাটিয়ে মোবাইল বাজার আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই বসুন্ধরা সিটির মোবাইল ফ্লোরগুলোতে ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বাড়তে থাকে। অবৈধ আমদানিকারকদের গঠিত তথাকথিত ‘ব্যবসায়ী সমিতি’ দোকান বন্ধ রাখার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বড় বড় শোরুমগুলো তাদের ঝাঁপ খুলে দেয়। ব্যবসায়ীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা চোরাই বা অবৈধ ফোনের ব্যবসা করেন না, তাই সরকারের এনইআইআর (NEIR) সিস্টেমকে তারা ভয় পান না।

বসুন্ধরা সিটির এক শোরুম মালিক বলেন,
“আমরা বৈধভাবে ভ্যাট-ট্যাক্স দিয়ে, বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে ফোন বিক্রি করি। কতিপয় অবৈধ আমদানিকারক ও লাগেজ পার্টির স্বার্থ রক্ষার জন্য আমরা আমাদের রুটি-রুজি বন্ধ রাখতে পারি না।”

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সরকারের এই প্রযুক্তিগত সংস্কারকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, এনইআইআর চালুর মাধ্যমে অবৈধ ফোন ব্যবসা বন্ধ হলে বৈধ ব্যবসায়ীরা আরও সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতা পাবেন।

জানুয়ারির ১ তারিখ যমুনা ফিউচার পার্কের ব্যবসায়ীরা সাহসী অবস্থান নেওয়ার পর আজ বসুন্ধরা সিটিতে একই চিত্র দেখা গেল। এর ধারাবাহিকতায় মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা ও মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের বৈধ ব্যবসায়ীরাও দোকান খোলার ঘোষণা দিয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, আজ বিকেলের মধ্যেই ঢাকার মোবাইল বাজার পুরোপুরি সচল হয়ে যাবে।

বিটিআরসি ভবনে হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—

  • যারা দোকান খোলা রাখছেন, তাদের শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।

  • কোনো উসকানিদাতা বা হামলাকারীকে তাৎক্ষণিক গ্রেফতারের নির্দেশ রয়েছে।

  • মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

দোকানগুলো খুলে যাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই বৈধ ফোন কেনার জন্য মার্কেটে ভিড় করছেন। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বৈধ ব্যবসায়ীদের এই ঐক্যবদ্ধ ও সাহসী অবস্থান অবৈধ সিন্ডিকেটের ভিত নড়িয়ে দেবে এবং মোবাইল বাজারে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনবে।

সব মিলিয়ে, বসুন্ধরা সিটিতে দোকান খোলার এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি মার্কেট চালু হওয়ার ঘটনা নয়, বরং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে বৈধ ব্যবসায়ীদের এক দৃঢ় বার্তা।

আরো পড়ুন

ডিজিটাল গুজবের আগ্রাসন: কীভাবে অপতথ্য দুর্বল করছে গণতন্ত্র ও সমাজ

ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের আশীর্বাদ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আজ এক গভীর সংকটের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক কিংবা...

Read more
অডিট রিপোর্ট ঘিরে ঝড়: একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য, বিপাকে ওয়ানপ্লাস

বড় ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে যাচ্ছে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান OnePlus। প্রতিষ্ঠানটির সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনে একাধিক গুরুতর...

Read more
ইউনিলিভার বাংলাদেশে বড় ধাক্কা: প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ মামলায় ৫ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পাঁচজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। প্রতারণা, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং বিপুল অঙ্কের...

Read more
২ মিনিটেই শেষ মটোরোলার নতুন ফোনের স্টক

বর্তমান সময়ে মটোরোলার অন্যতম আকর্ষণীয় ও আলোচিত স্মার্টফোন হলো ভাঁজযোগ্য প্রযুক্তির মটোরোলা রেজর ফাইভজি। আধুনিক ডিজাইন ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের এই...

Read more
প্রি-অর্ডার করলেই চমক: ভিভো ওয়াই২৯-এ থাকছে এক্সক্লুসিভ উপহার

দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি লাইফ ও আধুনিক ডিজাইনের নতুন স্মার্টফোন ভিভো ওয়াই২৯-এর প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই...

Read more
Scroll to Top