সারাদেশে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার’ (NEIR) বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন চলছে, তাকে একটি বিশাল ‘আইনবহির্ভূত সিন্ডিকেটের কারসাজি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশীয় মোবাইল শিল্প মালিকরা। গত মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এমআইওবি) জানিয়েছে, দেশে ১৩ হাজার মোবাইল রিটেইল পয়েন্টের মধ্যে ৯০ শতাংশই বৈধ পণ্যের ব্যবসা করে। প্রকৃত অর্থে অবৈধ ও আনঅফিসিয়াল ফোনের কারবারে জড়িত ব্যবসায়ীর সংখ্যা ১,০০০ থেকে ১,৫০০ এর বেশি নয়।
সংবাদ সম্মেলনে শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ও এমআইওবি-র নির্বাহী সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখান যে, এনইআইআর চালু হলে ২০ হাজার দোকান বন্ধ হয়ে যাবে এবং ২০ লাখ পরিবার পথে বসবে—এমন দাবিগুলো সম্পূর্ণ বানোয়াট ও জনসমর্থন আদায়ের একটি কৌশল মাত্র। তিনি বলেন, “আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ বৈধ ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষা করতেই এনইআইআর জরুরি। মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী শিশুদের ব্যবহার করে এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের ভুল বুঝিয়ে রাস্তায় নামিয়েছে।”
এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ জানান, বর্তমানে দেশে ১৮টি মোবাইল উৎপাদন কারখানায় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। অবৈধ ফোনের দাপটে এই শিল্প এখন হুমকির মুখে। তিনি আরও বলেন, সরকার আমদানিতে শুল্ক ২৫% থেকে কমিয়ে ১০% করেছে, যা বৈধ ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুযোগ। যারা আন্দোলন করছে, তারা মূলত এই ট্যাক্স কমানোর সুবিধা সাধারণ মানুষকে দিতে চায় না, বরং অবৈধ পথে লাভবান হতে চায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনইআইআর নিয়ে যে ভয় দেখানো হচ্ছে—যেমন ফোনের দাম বাড়বে বা ফোন বন্ধ হয়ে যাবে—সেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বরং এটি কার্যকর হলে মোবাইল চুরি ও ক্লোনিং কমবে এবং ফোন কেনা অনেক নিরাপদ হবে।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, দেড় হাজার অবৈধ ব্যবসায়ীর স্বার্থ রক্ষার জন্য পুরো মোবাইল সেক্টরকে জিম্মি করার চেষ্টা চলছে। সাধারণ খুচরা বিক্রেতা ও গ্রাহকদের এই বিভ্রান্তিকর আন্দোলন থেকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।




